গণভোট না মানলে ধানের শীষের বিজয়েরও বৈধতা থাকে না: মামুনুল হক

মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করলে ধানের শীষের বিজয়ের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে; তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ইসলামপন্থীদের ঐক্যের আহ্বান জানান।

শেয়ার
ছবি: দৈনিক সংগ্রাম

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, বর্তমান সরকারও টিকতে পারবে না। একই দিনে একই সময়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অস্বীকার করলে ধানের শীষের বিজয়েরও বৈধতা থাকে না।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে শহীদ খোকন পার্কে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণকামী। তাঁর ভুল হলে সেটি ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব মনে করি।’

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ব্যালটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের রায় নিয়ে সরকারে গিয়ে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে কীভাবে অস্বীকার করলেন?’

তিনি বলেন, একই দিনে একই তফসিলে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের একটি অবৈধ হলে অন্যটি বৈধ হয় না। গণভোটকে অবৈধ মনে করলে ধানের শীষের বিজয়েরও বৈধতা থাকে না।

মামুনুল হক আরও বলেন, ভোটের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, সে সময় ভোটের জন্য তারা গণভোটের পক্ষে ছিলেন। দেশের মানুষ এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

সংবিধান সংস্কারের দাবি

সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধের বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ তৈরি হয়েছে সংবিধান সংশোধন এবং সংস্কার নিয়ে। আমরা সংবিধানের সংস্কার চাই। কারণ অতীতে ১৭ বার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। এক সরকারের সংশোধন আরেক সরকার পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু সংস্কার হলে কেউ সেটি পরিবর্তন করতে পারবে না। সেজন্যই আমরা সংবিধানের সংস্কার চাই।’

তিনি বলেন, দেশের আলেম-ওলামারা জনগণের প্রতিটি আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও আলেম-ওলামারা রক্ত দিয়েছেন এবং জীবন দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে আলেম সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।

এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আলেম সমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো আলেমের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আলেম সমাজের ঐক্যের একটি মহান সুযোগ তৈরি হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। ইসলামপন্থীদের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। কোনো ইসলামপন্থী নেতা তাদের গালি দিলেও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করার জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

‘বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি’

সমালোচকদের উদ্দেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘যারা মনে করছেন ধাক্কা দিলেই আমরা নড়ে যাব, তাদের প্রতি স্পষ্ট বক্তব্য হলো—বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাড়াহুড়া করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে বিজয়ী হয়েই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি মামুন রাহমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মাওলানা আব্দুল হক আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

এর আগে আল্লামা মামুনুল হক বগুড়ায় এসে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা জামিল মাদরাসায় যান। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ ছাড়া একদিন আগে তাকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে গালি দেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হক আজাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন।

পরে তিনি বগুড়ার বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার খুতবা দেন এবং নামাজে ইমামতি করেন।

স্থান: বগুড়া