সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

সাতক্ষীরার রইচপুর ব্রিজের বেহাল সড়কে জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সাময়িক সংস্কার করেছেন।

শেয়ার
ছবি: দৈনিক সংগ্রাম

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।