হাটহাজারীতে পরীক্ষার হলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, আইসিইউতে সংকটাপন্ন ৪ পরীক্ষার্থী

হাটহাজারীতে পরীক্ষার হলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত চার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আইসিইউতে সংকটাপন্ন; একজনকে উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
দুর্ঘটনায় আহত চার এইচএসসি পরীক্ষার্থী
দুর্ঘটনায় আহত চার এইচএসসি পরীক্ষার্থী | ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। হাতে থাকার কথা ছিল কলম, চোখে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই নেমে এলো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এখন পরীক্ষার খাতার বদলে হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাটহাজারী সরকারি কলেজের এইচএসসি বিএমটি শাখার চার পরীক্ষার্থী—ফাহিম, শামিম, মাহিন ও রাফি।

গত ২ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের চারিয়া বোর্ডস্কুল এলাকায় নোহা মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হয়। একই ঘটনায় সিএনজি চালক এরশাদ নিহত হন এবং পাঁচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চার শিক্ষার্থীর কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাহিনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। অন্যরাও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

হাসপাতালের শয্যার পাশে এখন স্বজনদের উৎকণ্ঠা। কারও চোখে অশ্রু, কারও কণ্ঠে শুধু সন্তানের খবর জানার আকুতি। যে সন্তান সকালে পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল, তারই এখন হাসপাতালের বিছানায় জীবন বাঁচানোর লড়াই—এ দৃশ্য কোনো পরিবারের জন্যই সহজ নয়।

কয়েকদিন আগেও ফাহিম, শামিম, মাহিন ও রাফির সময় কাটছিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে। সামনে ছিল সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। পরীক্ষার হলে বসে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ পার করার কথা ছিল তাদের। অথচ আজ সেই পরীক্ষার খাতার বদলে তাদের শরীরে চিকিৎসার সরঞ্জাম, পাশে উদ্বিগ্ন স্বজন।

সহপাঠীদের মনেও গভীর কষ্ট। যে বন্ধুদের সঙ্গে পরীক্ষার হলে যাওয়ার কথা ছিল, তাদেরই এখন হাসপাতালের শয্যায় দেখতে হচ্ছে। কলেজের পরিচিত মুখগুলো আজ অনুপস্থিত। তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন সহপাঠী ও শিক্ষকরা।

এদিকে একই দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক এরশাদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক আরও ভারী হয়ে উঠেছে। একজনের প্রাণহানি আর চার তরুণ পরীক্ষার্থীর সংকটাপন্ন অবস্থায় পুরো হাটহাজারী যেন থমকে আছে।

তবুও অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখছেন স্বজন ও সহপাঠীরা। তাদের প্রত্যাশা, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও মহান আল্লাহর রহমতে চার শিক্ষার্থী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

আবার হাতে কলম ফিরবে, আবার পরীক্ষার হলে বসবে তারা—হাসিমুখে ফিরে আসবে স্বাভাবিক জীবনে। এই প্রত্যাশাতেই এখন দিন গুনছে চার পরিবার, সহপাঠী ও পুরো হাটহাজারী।