গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বশেষ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, প্রশাসন, আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা যাদের অধীনে রয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সরকার যেন সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের কোনো দল বা কেউ যদি লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাবে এবং ভবিষ্যতে আরও হারাবে। একই সঙ্গে তারা জনরোষের মুখোমুখি হতে পারে। সরকার ও সরকারি দলের কেউ এমন অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ নেবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায়ে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে আমরা একসঙ্গে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না। জনগণ ও আমাদের দাবি হলো—গণভোটের গণরায় মেনে নেওয়া এবং আমাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।’
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।
তিনি জানান, লংমার্চের কর্মসূচির বিষয়ে ১১ দলের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। লংমার্চের রুটের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ কর্মসূচিকে অভিবাদন জানাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ
গোলাম পরওয়ার জানান, লংমার্চের সামগ্রিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের প্রথম পথসভা নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডে, এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় শাখাগুলো এসব পথসভার আয়োজন ও বাস্তবায়ন করবে। লংমার্চের বহরে থাকা গাড়িগুলোতে নির্ধারিত স্টিকার থাকবে। চলন্ত অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না; কেউ যুক্ত হতে চাইলে বহরের শেষে যুক্ত হতে হবে।
সংবাদ প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের গাড়িও গাড়িবহরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ দেশবাসী ও দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।