১১ দলের ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের অভিমুখে লংমার্চ : ফেনীর পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত

ফেনীর মহীপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বিপুল জনসমাগমে জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

শেয়ার
পথসভায় প্রধান অতিথির রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পথসভায় প্রধান অতিথির রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। | ছবি: দৈনিক সংগ্রাম

আব্দুর রহিম, ফেনী সংবাদদাতা:

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহীপালে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহীপাল এলাকায় আয়োজিত এ পথসভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের লাখো উপস্থিতি দেখা যায়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলের গণহত্যা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করছে না দাবি করে তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায়, তাদের প্রাণের দাবির এসব বিচারের কী হলো।

Feni’s Public Rally Turns into a Sea of People_16x9

পথসভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের লাখো উপস্থিতি দেখা যায়

এর আগে বেলা সোয়া ২টায় পথসভার সভাপতি ও ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পথসভা শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী আমলের গণহত্যার বিচার চাই। জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। এ সরকার এসবের বিচার করছে না। জনগণ জানতে চায়, তাদের প্রাণের দাবির এ বিচারগুলোর কী হলো?”

ফেনীর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ফেনীতে বিদ্যুৎ না থাকলেও সংসদে আছে। গ্যাস ও পানি আছে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাসায়।” বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পার করলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ গর্বের বাংলাদেশ। এটি আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোনো দাদাবাড়ি নেই। বজ্রপাত হলেও আমরা জনগণের সঙ্গে থাকব। আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি, আমরা রাস্তায় নেমেছি জনগণের দাবি নিয়ে। নতুন ফ্যাসিবাদের কবর দিতে। আমরা কোনো চোখ রাঙানিকে ভয় পাই না।”

সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব, গর্জন করব।” তিনি বলেন, সরকারকে কিছু সময় দেওয়া হচ্ছে, তবে এ সময় দীর্ঘ হবে না। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদের লড়াই যুবকদের জন্য। যুবকরা দেশের নেতৃত্ব দেবে।” দেশে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে তা করছে না। রাজপথে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর আর একটি হামলা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করা হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। ঢাকার লংমার্চ থেকে রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তার আগেই সরকারের প্রতি ছয় দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আমরা পাইনি। ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।”

তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকারের মুখপাত্র গণভোটকে অবৈধ বলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হলেও কেবল গণভোট অবৈধ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।”

মামুনুল হক আরও বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গণভোটের গণরায় বাতিলের পাঁয়তারা এবং জুলাই সনদ নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হলে জনগণ সরকারকে লালকার্ড দেখাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার কর্মসূচি শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। লংমার্চের নির্ধারিত রুটে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফেনীর মহীপালের পথসভা শেষে মীরসরাইয়ে আরও একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর লংমার্চের বহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে যাবে। সেখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সমাবেশেও ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা করা হয়েছে।

স্থান: ফেনী