প্রশাসনের বাধায় ঢাবির প্রায় দুই ডজন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প আটকে আছে: ডাকসু ভিপি

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রায় দুই ডজন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প বর্তমান প্রশাসন ও সরকারের রাজনৈতিক বাধায় স্থবির হয়ে রয়েছে।

শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর প্রচেষ্টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রায় দুই ডজন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প বর্তমান প্রশাসন ও সরকারের রাজনৈতিক বাধায় আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংযুক্ত করে তিনি এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ভিপি সাদিক কায়েম দাবি করেন, ঢাবি প্রশাসনের চরম অসহযোগিতা ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধার কারণে প্রায় ২৪টি বৃহৎ ও মাঝারি উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে, যার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকার দেয়নি।

তিনি জানান, আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও আইসিটি বিভাগের সমঝোতায় হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি প্রকল্পও অগ্রগতি পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসবের মধ্যে স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, বড় আকারের টেকসই ডাস্টবিন বসানো এবং প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্পও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভের কাজও নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও লিখেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ক্যান্টিনগুলোতে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপনের প্রকল্পও বাস্তবায়ন হয়নি।

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরির প্রস্তাব, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন ও প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে যায়।

পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রহলে মক্তব প্রকল্প ও সংস্কারের জন্য প্রতি হলের মসজিদের জন্য ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে একটি 'ইসলামিক ফাউন্ডেশন' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হলের সেই বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদান করা হয়নি।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার পোস্টে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "নতুন সরকার আসার পর থেকে কী কারণে এসব প্রকল্প বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনুমোদিত এই শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি কেবল দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ধ করা হয়, তাহলে তা নতুন ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই জন্ম দেবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষার্থীদের অধিকারটুকুও বর্তমান সরকার কেবল দলীয় স্বার্থ চরিতার্থের লক্ষ্যে ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না, যা দেশের আপামর ছাত্রসমাজের জানা উচিত।

প্রকল্পগুলো দ্রুত চালুর বিষয়ে ঢাবি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।