খুলনায় শ্রমিক কল্যাণের সম্মেলন

অবিলম্বে বন্ধকৃত মিল কলকারখানা চালু করতে হবে: আতিকুর রহমান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান খুলনায় অনুষ্ঠিত জেলা ইউনিট সম্মেলনে অবিলম্বে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছেন এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন।

শেয়ার
ছবি: দৈনিক সংগ্রাম

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে কেউ চেষ্টা করেনি, সরকার পুঁজিপতি শিল্পপতিরা সব সময় তাদের ব্যবহার করেছে। সময় এসেছে আমরা যারা আল্লাহকে ভয় করে জান্নাত পাওয়ার আশায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছি তাদেরকে শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে এদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এক সময় খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর, আফিলগেট, আলিম স্টান্ড, যশোরের নওয়াপাড়া, রাজঘাট শ্রমিকের পদচারণায় মুখরিত ছিল; সেখানকার সকল কারখানা বন্ধ হয়ে এখন এলাকা মানুষ শূন্য হয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন- বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করতে হবে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হবে নইলে শ্রমিক জনতাকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরীর খালিশপুরের বিআইডিসি সড়কে অবস্থিত শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে খুলনা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিট সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, শ্রমিকরা আজও তাদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নামে নেতৃত্বে থাকা অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, তাদের পকেট মোটা হয়েছে; কিন্তু শ্রমিকের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরাই দেশ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। অথচ তারাই আজ সর্বক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৪টি জাতীয় বাজেট পাস হলেও কোনো সরকার আন্তরিকভাবে শ্রমিকবান্ধব ও শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানমুখী বাজেট প্রণয়ন করেনি।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক তার ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য থেকে আজও বঞ্চিত। আট ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিকরা জীবন দিয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে ১০, ১২ এমনকি ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হলেও যথাযথ ওভারটাইম দেওয়া হয় না। একটি স্বাধীন দেশে কেন আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হবে—এর জবাব সরকারের কাছে জানতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায্য মজুরির সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। নির্বাচনের আগে নেতারা শ্রমিকবান্ধব নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে যান। ফলে শ্রমিকদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান।

খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসূল, খুলনা অঞ্চল সরকারি পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, টিম সদস্য অধ্যাপক আলফিদা হোসেন, মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী। অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাওলানা শেখ কামাল হোসেন, আলি আকবার মোড়ল, শেখ আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ আল আমিন গোলদার, মুজাহিদুল ইসলাম, কে এম রায়হানুল হক, মাওলানা নুরুন্নবী সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন শিহাব, মাওলানা সাইফুল্লাহ মুনসুর, ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, মো. আব্দুল আলিম শেখ, হাফেজ আব্দুস সাত্তার, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ ফিরোজ শেখ, মোহাম্মদ মাহমুদুল আলম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, অধিকার আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক শ্রম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থান: খুলনা