কুষ্টিয়ায় অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

শেয়ার

কুষ্টিয়া জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট ৮০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১৫টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয় চলছে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান।

জানা যায়, জেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু জেলার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।

​উপজেলাওয়ারি পরিসংখ্যানে এই শিক্ষক সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দৌলতপুর উপজেলায়, যেখানে ২১৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৫১টির মধ্যে ৭৫টি, কুমারখালীর ১৪৭টির মধ্যে ৭৯টি, খোকসার ৮৭টির মধ্যে ৫৬টি, মিরপুরের ১৪৩টির মধ্যে ৪৯টি এবং ভেড়ামারার ৬০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। জেলায় সব মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এমন সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকাই এই শূন্যতার প্রধান কারণ। নিয়মানুযায়ী শূন্য পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা। কিন্তু আইনি জটিলতা, এডিপি ও আইডিএ প্রকল্পের শিক্ষকদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মামলা এবং পুল ও প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতায় পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

​স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ, সরকারি চিঠিপত্রের উত্তর দেওয়া এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে গিয়ে তারা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে সময় দিতে পারছেন না। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাছপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজমি আরা সাথী এবং কুমারখালীর ধলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাচ্চু আক্ষেপ করে জানান, প্রশাসনিক কাজের চাপে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু জানান, এই অতিরিক্ত চাপের কারণে শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।

​এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা অপরিহার্য। পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এর একটি কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থান: কুষ্টিয়া