প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুরে যুবক গ্রেপ্তার

শেয়ার

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশের অর্গানাইজার হিসাবে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাছা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তার এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি তার বাসায় চলতি মাসে চার হাজার টাকা এবং আগের মাসে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে বলে দাবি করেন।

বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে থানায় আনা হয়।

ওসি বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম সেকান্দর আলী। তার স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুর জেলার নড়াইল এলাকায় এবং বর্তমানে তিনি গাজীপুরের গাছা থানার খাইলকৈর এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ শুধু তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য নয়, তাকে ঘিরে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্তও পর্যালোচনা করেছে। এতে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, গাজীপুরে বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মিছিল-সমাবেশে সিফাতের সংগঠক বা আয়োজক হিসেবে সম্পৃক্ততার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে সেটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

এদিকে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।

তিনি বলেন, সিফাত বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি সংকটের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে তার কিছু শব্দচয়ন সামাজিকভাবে আপত্তিকর হয়ে থাকতে পারে। তবে এ কারণে একজন তরুণকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার করা মানবাধিকার ও সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আলী নাসের খান দাবি করেন, সিফাত ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আদমজী কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য আইন লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একজন তরুণের আইনগত অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। সিফাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি তার মুক্তির দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

পুলিশ জানিয়েছে, সিফাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, কথিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থান: গাজীপুর