বিশেষ ‘লোন প্যাকেজ’ নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গিকার হচ্ছে,আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। বর্তমানে দেশের জিডিপি’র আকার হচ্ছে ৪শ’ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শেয়ার

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গিকার হচ্ছে,আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। বর্তমানে দেশের জিডিপি’র আকার হচ্ছে ৪শ’ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় অর্জন করতে হলে আগামী ৮ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণেরও বেশি সম্প্রসারিত করতে হবে। এটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষি একটি পরিকল্পনা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা শুধু কঠিন নয় দূরূহও বটে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে হলে প্রতিবছর ৮ থেকে ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরো কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। গৃহীত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক মাত্রায় নতুন উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থায় অর্থনীতির বেশির ভাগ সুচকই নিম্নমুখি ধারায় রয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ব্যক্তিখাতকে গতিশীল করতে হবে এবং প্রতি বছর এ খাতে অন্তত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপি’র আকার লক্ষ্যমাত্রা অনুয়ায়ী সম্প্রসারিত করতে হলে জিডিপি-প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট রেশিও অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, বর্তমানে জিডিপি- ইনভেস্টমেন্ট রেশিও হচ্ছে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ। এটা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর প্রাইভেট সেক্টরে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ,যা গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার,বন্ধ কারখানা চালুকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সার্বিকভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণদান প্যাকেজ গ্রহণ করেছে। দেশে ব্যবসায়রত সিডিউল ব্যাংকগুলো নিজ উদ্যোগে ৪১ হাজার কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক পুন:অর্থায়ন ফান্ড থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা যোগান দেবে। সিডিউল ব্যাংকগুলোর বিশেষ এ বিশেষ ঋণদান তহবিল থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য দেয়া হবে। ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য ব্যবহৃত হবে। ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিকাশের জন্য দেয়া হবে। ৩ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি পণ্য বহুমুখিকরণের জন্য দেয়া হবে।

এছাড়া ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট, ৫ হাজার কোটি টাকা কটেজ অ্যান্ড মাইক্রোএন্টারপ্রাইজের জন্য দেয়া হবে। চামড়া শিল্প এবং হিমায়িত খাদ্য খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা করে দেয়া হবে।বেকার সমস্যা সমাধান ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং স্টার্টআপ প্রকল্পের জন্য ৫ শ’ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পুন:অর্থায়ন ফান্ড থেকে দেয়া ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং সিডিউল ব্যাংকগুলো নিজস্ব উদ্যোগে যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণদান করবে উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। বর্তমানে উন্মুক্ত বাজারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচলিত সুদ হারের চেয়ে অর্ধেক সুদে এই ঋণদান করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগি এবং যুগান্তকারি। বিগত দিনগুলোতে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা যে কোন বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক থেকে চাহিদা মতো ঋণের যোগান না পাওয়া। এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদা মতো ঋণ না পাওয়া। কাজেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সাধুবাদ পাবার যোগ্য।

এখন প্রশ্ন হলো,বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করবে তা কিভাবে এবং কাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে? বাংলাদেশ ব্যাংক এ ঋণদান কার্যক্রম কিভাবে বাস্তবায়িত করবে এবং কারা এ বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন তা উল্লেখ করেনি। তারা বলেছে,ঋণ কিভাবে বিতরণ করা হবে তা পরে জানানো হবে। ঋণের জন্য তহবিল গঠন করাটাই শেষ কথা নয়। তহবিল থেকে যদি সঠিকভাবে ঋণদান করা না হয় তাহলে এ কার্যক্রম ব্যর্থ হতে বাধ্য। বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের পূর্বেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে কারা এ তহবিল থেকে ঋণ পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যারা চিহ্নিত এবং ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি তারা যাতে কোনভাবেই এ বিশেষ ঋণদান কার্যক্রমে যুক্ত হতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে যারা কখনোই কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হননি তাদের এবং নতুন উদ্যোক্তাদের এই বিশেষ ঋণদান কার্যক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। যেসব উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের মাধ্যমে নিজেদের ‘ক্লিন’ দেখিয়েছেন তারা যাতে কোনভাবেই এ বিশেষ ঋণদান কার্যক্রমে যুক্ত হতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ হিসাব পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়েছেন এবং ব্যাংকে ২ শতাংশ নগদ ডাউন পেমেন্ট ব্যাংকে এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করিয়ে নিয়েছেন তাদের এই ঋণদান কার্যক্রমে কোনভাবেই যুক্ত হতে দেয়া যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে গত অক্টোবর মাসে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দু’বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করিয়ে নিয়েছেন এবং সর্বশেষ যারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে গত মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ পুন:তফসিলিকরণের সুবিধা পাচ্ছেন তাদেরও এ বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ দেয়া যাবে না। ২শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ হিসাব ১০ বছরের জন্য পুন:তফসিলিকরণ করিয়ে নেবার ফলে ব্যাংকিং সেক্টর তথা জাতীয় অর্থনীতিতে তার কেমন প্রভাব পড়েছে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ব্যাংকিং সেক্টরে দৃশ্যমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। ডিসেম্বর মাস শেষে এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ এভাবে হ্রাস পাবার বিষয়টি অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক হতো যদি কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে এভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো যেতো।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে মূলত ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের কারণে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ঋণ খেলাপিদের এমন সুযোগ কেন দিয়েছিলেন? ঋণ খেলাপিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগদানের হীন উদ্দেশ্যেই মূলত এধরনের পুন:তফসিলিকরণ সুবিধা দিয়েছিল। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন অন্তত ৩৯জন ঋণ খেলাপি ছিলেন। তারা এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের ঋণ খেলাপিমুক্ত দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। যারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের সুযোগ পেয়েছেন তারা কিভাবে উপকৃত হয়েছেন তা একটু ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোন ঋণ খেলাপি, বিল খেলাপি জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না। কারো নিকট যদি ব্যাংকের পাওনা ১০০ কোটি টাকার ঋণ হিসাব খেলাপি হয়ে থাকে তাহলে তাকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে হলে ১০০ কোটি টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু তিনি যদি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দু’বছরের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণহিসাব পুন:তফসিলিকরণ করিয়ে নেন তাহলে তাকে ব্যাংকে মাত্র ২ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।

পরবর্তীতে ২ বছর তাকে আর কোন কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। শর্ত মোতাবেক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে গেলে তাকে ১০ বছরের মধ্যে আর ঋণ খেলাপি বলা যাবে না। আওয়ামী লীগ সরকার আমলের শেষের দিকে ঋণ খেলাপি উদ্যোক্তাগোষ্ঠীকে একটি বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। আগে নিয়ম ছিল কোন উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর যদি একাধিক শিল্প-কারখানা থাকে এবং তার মধ্যে একটি মাত্র শিল্প ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে তাহলে গ্রুপের অবশিষ্ট শিল্পগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ পাবার অযোগ্য বিবেচিত হতো। যেমন কোন উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর হয়তো ২০টি শিল্প আছে। এর মধ্যে একটি শিল্প ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে অবশিষ্ট ১৯টি প্রকল্প ব্যাংক ঋণ পাবার অযোগ্য বিবেচিত হতো। এ আইন পরিবর্তন করে বলা হয়, কোন শিল্প গোষ্ঠীর এক বা একাধিক শিল্প প্রকল্প ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লেও অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারবে। বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন। কোন উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর একটি মাত্র প্রকল্প ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোকেও ব্যাংক থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। কিছুদিন আগে একক ঋণ সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে নিয়ম ছিল কোন একক শিল্পগোষ্ঠী বা উদ্যোক্তা একটি ব্যাংকের বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের ১৫ শতাংশ সরাসরি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারতেন। কিছু দিন আগে সে আইন পরিবর্তন করে একক ঋণ সীমা ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এই আইন পরিবর্তন করা আবশ্যক। এটা পরিবর্তন না করা হলে ব্যাংক ঋণ মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে পুঞ্জিভূত হয়ে পড়বে।

আমাদের দেশে ব্যাংকিং সেক্টরে যত ধরনের নীতি সুবিধা প্রদান করা হয় তার বেশির ভাগই দেয়া হয় ঋণখেলাপিদের। যারা নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করেন তাদের কোন সুবিধা দেয়া হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংক যে বিশেষ ঋণ তহবিল ঘোষণা করেছে তা যেন পরীক্ষিত সৎ এবং ভালো উদ্যোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনভাবেই ইচ্ছাকৃত এবং পরীক্ষিত ঋণ খেলাপিদের এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে দেয়া যাবে না। ইচ্ছাকৃত এবং পরীক্ষিত ঋণ খেলাপি,যারা যদি আইনের মারপ্যাচে নিজেদের খেলাপি মুক্ত দেখাতে পারেন তাহলেও তাদের এই কার্যক্রমে অংশ নিতে দেয়া যাবে না। ঋণ গ্রহণের পর কোন পর্যায়ে ঋণখেলাপি হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের যদি বিশেষ ঋণদান তহবিল থেকে দূরে রাখা না যায় তাহলে এ ঋণদান কার্যক্রম শুধু নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে তাই নয় ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। একই সঙ্গে বড় প্রকল্পে ঋণদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি প্রকল্পে ঋণদানের উপর বিশেষ জোর দিতে হবে। আমাদের দেশে শিল্প প্রকল্প ব্যর্থ হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিজ্ঞতার অভাব। একজন মানুষ বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকলেই তিনি যে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। চর্চা এবং পরিশীলনের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা গড়ে উঠে। কেউ যদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন তার পক্ষে বৃহৎ শিল্প পরিচালনা করা সহজ হয়।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক।