পাহাড়ে অস্ত্রের ভাণ্ডারের সন্ধান অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের পটিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২টি দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোন।

একই সময়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পৃথক অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলী উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার‌্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়া এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) এবং মো. মহসিন (৩৩)।

পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পটিয়া থানার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দুর্গম পথ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান চালিয়ে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেলিশহর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্নারপাড়া এলাকায় দেলোয়ার হোসেনের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি দা, একটি ধামা দা, একটি লোহার করাত এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর একই দিন বিকেলে পটিয়ার ছাতিভাঙ্গা এলাকার আফছারের গাছবাগানে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। সেখানে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখা দুটি একনলা বন্দুক এবং দুটি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকা-ে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। অস্ত্রগুলোর উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগী এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে অপরাধ, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, একই সময়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলী উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খন্দকারপাড়া এলাকার কালু মুন্সীর বাড়ির সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তিন রাউন্ড পিস্তলের গুলী উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত ও সরবরাহ চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।