বরিশাল মেডিকেল কলেজ

হাসপাতালে সেবিকাদের দায়িত্বে অবহেলা ॥ রোগীর মৃত্যু

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) সেবিকাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

শেয়ার

বরিশাল অফিস : বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) সেবিকাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেনÑ বরিশাল সারসী গ্রামের মৃত বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৮) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মন্নান তালুকদারের স্ত্রী শেফালি বেগম (৬০)। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা, নাক-কান-গলা ওয়ার্ড ও মৃতদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য গত ৫ রমজান হাসপাতালে ভর্তি হন হেলেনা বেগম এবং ১৮ রমজান ভর্তি হন শেফালি বেগম। হেলেনা বেগম থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আর শেফালি বেগম মুখের ভেতরের টিউমার অপসারণের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন।

অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেবিকারা তাদের শরীরে কয়েকটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। সকালে ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হালদার ভুলবশত নরকিউ (ঘড়ৎ ছ) ১০ মিলিগ্রাম অ্যানেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই দুই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালক ওয়ার্ড পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে সেবিকাদের অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা হেলেন অধিকারী বলেন, তিনি ইনজেকশনের ভায়াল ভাঙেননি; ভেঙেছেন অন্য সেবিকা মলিনা হালদার। তিনি শুধু ইনজেকশন প্রয়োগ করেছেন। ঘটনাটি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য সেবিকা মলিনা হালদার বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অপারেশনের আগে যে ইনজেকশন দেয়ার কথা, সেগুলোই দেয়া হয়েছে। রোগীদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসককে ফোনে বিষয়টি জানানো হয় এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।

হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সিং তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম বলেন, সকালে হাসপাতালে এসে ঘটনাটি শুনেছি। কোনো রোগীর মৃত্যু কাম্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, একই ওয়ার্ডে দুজন রোগীর মৃত্যু অবশ্যই দায়িত্ব অবহেলা। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক যে ব্যবস্থা নেবেন তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতাও করব।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে দেয়ার কথা থাকলেও সেগুলো ওয়ার্ডেই প্রয়োগ করা হয়েছে। অ্যানেসথেটিক ওষুধ প্রয়োগের পর রোগীর শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে তা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দরকার হয়, যা ওয়ার্ডে ছিল না। ফলে কিছু সময়ের মধ্যে দুই রোগীর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি পেশাগত দায়িত্বে অবহেলার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। স্বজনরা চাইলে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারবেন