খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে, রোগীরা অন্য হাসপাতালে

শেয়ার

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০১ জুন ) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহানগরী ময়লাপোতা মোড়ের কাছে ১৭ তলা হাসপাতাল ভবনের আগন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

ক্রেন দিয়ে রোগী ও স্বজনদের নামিয়ে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের বেজ মেন্ট থেকে শব্দ হয়। এরপর আগুনের সূত্রপাত হয়। হাসপাতাল ভবনের নীচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেয়া হয়। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তারা নীচতলার অক্সিজেন রুমে পানি দিতে থাকেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন স্থানীয়রা। তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। হাসপতালে থাকা রোগীদের যেন কোনো রকমের শ্বাস কষ্ট না হয় সেজন্য তারা ভবনের গ্লাসগুলো ভেঙ্গে ফেলেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও স্থানীয়রাও সেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন। এ ঘটনায় কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিটি মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ডা রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু মোবাইলে খোঁজখবর রাখছেন তিনি। কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।

এদিকে, সিটি মেডিকেল থেকে যে সকল রোগী গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের চিকিৎসা ফ্রি করেছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার হাসপাতালে।