বিশ্বকাপে অংশ নিতে চীন যাচ্ছে আরচ্যারি দল

আগামী ৫ মে চীনের সাংহাই শহরে আরচ্যারি বিশ্বকাপের স্টেজ-২ আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড বিভাগের নারী, পুরুষ, দলগত এবং মিশ্র মোট ১০টি ইভেন্টের সবকটিতেই লড়বেন বাংলাদেশের আরচ্যাররা।

শেয়ার

আগামী ৫ মে চীনের সাংহাই শহরে আরচ্যারি বিশ্বকাপের স্টেজ-২ আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড বিভাগের নারী, পুরুষ, দলগত এবং মিশ্র মোট ১০টি ইভেন্টের সবকটিতেই লড়বেন বাংলাদেশের আরচ্যাররা। তবে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রায় সবার আলাদা নজর কেড়েছেন রিকার্ভ আরচ্যার নাসরিন আক্তার। এক বছর পার হওয়া ছোট্ট শিশুসন্তানকে বাড়িতে রেখেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এই অদম্য মা। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন নিজের এই কঠিন লড়াইয়ের কথা জানান।

মাত্র ১৩ মাসের সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, একজন মা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা চরম কঠিন। আমার বাচ্চাটা এখনো একেবারেই ছোট ও অবুঝ, কিছুক্ষণ পরপরই সে তার মাকে খুঁজবে।এরপরও শুধুমাত্র দেশের হয়ে খেলার তাগিদেই আমাকে বিশ্বকাপে যেতে হচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে স্বামীর পাশাপাশি পুরো পরিবারের দারুণ সমর্থন পাচ্ছেন নাসরিন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতা ছাড়া দেশের বাইরে খেলতে যাওয়া তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল।

নাসরিনের এই মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কঙ্গোতে এক বছর শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ করার পর পুনরায় আরচ্যারিতে ফিরেছেন নাসরিন। মাতৃত্বের মতো জীবনের বড় একটি পরিবর্তনের পরও তিনি নিজের স্কোরের কোনো অবনতি হতে দেননি, যা সত্যিই অভাবনীয়। সাংহাই বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক বলেন, এই টুর্নামেন্ট মূলত তাদের আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির বড় একটি অংশ। পাশাপাশি এই বৈশ্বিক আসর থেকেও ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

গত মাসেই থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের কারণে কম্পাউন্ড দলের ওপর এবার প্রত্যাশার পারদটাও বেশ উঁচুতে। স্বর্ণ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড় আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, এশিয়া কাপের সেই দুর্দান্ত সাফল্যের ধারাবাহিকতা তারা বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে চান।

এশিয়া কাপে স্বর্ণপদক এনে দেওয়া তিন আরচ্যার হিমু বাছাড়, নেওয়াজ আহমেদ রাকিব এবং ঐশ্বর্য্য রহমানকে ৪০০ মার্কিন ডলার করে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীবউদ্দিন আহমেদ চপল। শুধু খেলোয়াড়রাই নন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দলের তিন কোচিং স্টাফও পেয়েছেন ২০০ ডলার করে।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের তিন পদকজয়ীকে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দেওয়া ১০ লাখ টাকা করে প্রদানের প্রতিশ্রুতিও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সভাপতি মোখলেসুর রহমান আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চলতি মাসেই একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুত অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং কোচদেরও সম্মাননা জানানো হবে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরচ্যারি অন্যতম সফল একটি নাম, যারা টানা দুই অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে সম্প্রতি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক শিরোনাম হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গটি উঠলে সভাপতি মোখলেসুর রহমান বিষয়টিকে নিছক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেন এবং জানান যে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে।