চূড়ান্ত পরাজয়ের অপেক্ষায় নেতানিয়াহু

দম্ভ ও জুলুম অনাকাক্সিক্ষত বিষয়। মানবের মনন এ বিষয়গুলো মেনে নিতে পারে না। তবুও কোনো কোনো মানুষ, কোনো কোনো রাষ্ট্র, অনাকাক্সিক্ষত এ পথে পা বাড়ায়। দম্ভ ও জুলুমের পথে যারা হেঁটেছেন, তারা মানুষের এবং নিজের ক্ষতি করেছেন।

শেয়ার

দম্ভ ও জুলুম অনাকাক্সিক্ষত বিষয়। মানবের মনন এ বিষয়গুলো মেনে নিতে পারে না। তবুও কোনো কোনো মানুষ, কোনো কোনো রাষ্ট্র, অনাকাক্সিক্ষত এ পথে পা বাড়ায়। দম্ভ ও জুলুমের পথে যারা হেঁটেছেন, তারা মানুষের এবং নিজের ক্ষতি করেছেন। অবেশেষে নিন্দিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পরাজয়বরণ করেছেন। পরাজিত ও পরাভূত হিটলার ও মুসোলিনি ইতিহাসের পাতায় নিন্দিত ব্যক্তি হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছেন। তারা নিজ দেশের ক্ষতি করেছেন, ক্ষতি করেছেন বিশ্বের। ফ্যাসিস্ট ও যুদ্ধবাজ ব্যক্তিরা সবসময়ই ক্ষতিকর। মানব সমাজে এরা নেতৃত্বের আসনে বসার উপযুক্ত নয়। তবুও অন্ধকার সময়ে, নীতিহীন বিশ্বব্যবস্থায় ওই প্রজাতির প্রাণীরা ক্ষমতার মসনদে এসে যান। যেমন এখন ইসরাইলের ক্ষমতার মসনদে আসীন আছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবাজ এই নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। তার ওপর জারি আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

যুদ্ধবাজ ও ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিরা শুধু আন্তর্জাতিক বিশ্বেই নিন্দিত নন, নিজ দেশেও এক সময় তারা প্রত্যাখ্যাত হন। তবে এর আগে তারা ছলচাতুরীর রাজনীতি করেন, দুর্নীতি করেন এবং জড়িয়ে যান নানা অনৈতিক ও নিষ্ঠুর কর্মে। ইসরাইলের আদালতে মামলা আছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। কাঠগড়ায় অপরাধের জবাব দিতে হবে তাকে। কি অদ্ভুত নেতা তিনিÑতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতে এবং নিজ দেশের আদালতেও। কাহিনী এখানেই শেষ নয়, ইসরাইলের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদকে’ সমর্থন এবং ‘জাতিগত নির্মূলের আদর্শ’ অনুসরণের অভিযোগে ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমিক দিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাশালী কয়েক ডজন ব্যক্তি। সম্প্রতি নেতানিয়াহু সরকারকে চিঠি দিয়েছেন তারা। ফাঁস হওয়া চিঠিতে দেখা গেছেÑ এসব ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ইসরাইলের সাবেক দু’জন প্রধানমন্ত্রী, ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক কয়েজন প্রধান, সাবেক বিচারপতি, ঔপন্যাসিক ও একজন নোবেল বিজয়ী। চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান নৃশংসতা নিয়ে ‘শেষবারের মতো’ সরকারকে সতর্ক করেছেন তারা।

উপলব্ধি করা যায়, দেশে-বিদেশে কোথাও আর সম্মানিত নন নেতানিয়াহু। অথচ নৈতিক ভিত্তি না থাকার পরও ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন তিনি। চিঠিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে’ অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বছরের পর বছর ঘটে যাওয়া সহিংসতা, যেমনÑহত্যা, যৌন নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ ও মরদেহ অবমাননার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা বলেন, এত অপরাধের পরও সামরিক-বেসামরিক লোকদের বিচার হয়নি। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম মাত্রার সহিংসতা ইসরাইলের ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙঘন বলে উল্লেখ করেছেন ইসরাইলের এসব বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেছেন, এতে ইসরাইলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। উপলব্ধি করা যায়, নেতানিয়াহু সরকার নিজ দেশেও কতটা নিন্দিত ও অনাকাক্সিক্ষত। এরপরও ইসরাইলের এই প্রধানমন্ত্রী তার সন্ত্রাস ও যুদ্ধবাজ নীতি অব্যাহত রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তো কিছুটা বোধোদয় ঘটেছে, কিন্তু নেতানিয়াহুর তেমন সৌভাগ্য হয়নি। যুদ্ধাপরাধী এই নেতা হয়তো চূড়ান্ত পরাজয় ও ধ্বংসের অপেক্ষায় আছেন।