প্রবৃত্তির তাড়নায় বিকৃত রুচির উত্থান

শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক। নিহত রামিসা আক্তার পল্লবীর ‘পপুলার মডেল হাই স্কুলের’ দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শেয়ার

শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক। নিহত রামিসা আক্তার পল্লবীর ‘পপুলার মডেল হাই স্কুলের’ দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পল্লবীর সেকশন-১১ এর একটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাসূত্রে জানা যায়, রামিসার পরিবার এবং অভিযুক্ত সোহেল রানা একই ভবনে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতেন। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে শিশুটির স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎই তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা দেখেন পাশের ফ্ল্যাটে দরজার বাইরে শিশুটির পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির লাশ পায়। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং টয়লেটের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং আলামত গোপন করতে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে।

এমন একটি ঘটনা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করতে বাধ্য করে: আমরা কি মানবিকতা হারিয়ে ফেলছি? সমাজ কি ক্রমে নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে? এ প্রশ্নের পেছনে গভীর হতাশা আছে। কারণ একটি শিশু পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকার কথা। যখন একটি শিশু এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তখন তা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, সমাজের নৈতিক অবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। আমাদের বুঝতে হবে, এ ধরনের অপরাধ সাধারণ মানুষের আচরণ নয়; এগুলো বিকৃত মানসিকতা, সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতার ভয়ংকর প্রকাশ। সমাজে যখন সহমর্মিতা কমে যায়, পরিবার দুর্বল হয়, শিশুদের নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়, আর অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার আশা করে, তখন এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা বাড়তে পারে।

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ বা পেডোফিলিয়া একটি গুরুতর মানসিক বিকৃতি ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এটি কঠোরভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও ট্রান্সজেন্ডারের মতো বিষয়টিকেও পশ্চিমারা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হলো এক ধরনের মানসিক বিকৃতি যা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়। এ চিন্তার মানুষেরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বয়ঃসন্ধির পূর্ববর্তী শিশুদের বিশেষ করে কম বয়সি শিশুদের প্রতি তীব্র যৌন আকর্ষণ অনুভব করে।

এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি আলোচিত ইস্যু তথা ‘এপস্টেইন ফাইল’ এর ইস্যু না আনলেই নয়। এপস্টেইন ফাইল হলো মার্কিন ধনকুবের এবং দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সংগৃহীত হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথিপত্র। ফাইলটি কার্যত মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআই-এর সংগৃহীত আইনি নথিপত্র, ইমেল, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির একটি বিশাল সংকলন। ‘এপস্টেইন ফাইল মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের দালিলিক প্রমাণ। এ ফাইলটি আলোচিত হওয়ার মূল কারণ হলো এতে থাকা নামের তালিকা। বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতা, রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের মহাতারকাÑকার নাম নেই এ তালিকায়! বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের নাম এই অপরাধচক্রের সাথে জড়িয়ে আছে। এটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে এলিট সমাজ কতটা ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারে। ২০২৬ সালের লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথি, হাজার হাজার ফটো ও ভিডিওর মাধ্যমে ফাঁস করা তথ্যে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবের এবং এলিট শ্রেণির ব্যক্তিরা এপস্টাইনের প্রমোদতরী ও পার্টিগুলোতে কেবল শিশুদের যৌন নিপীড়নই করতো না, বরং শিশুদের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য ‘নরমাংসভোজী’ উৎসবেও লিপ্ত হতো।

নথিতে অন্তর্ভুক্ত একজন সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে জানা যায় এক নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা। ওই সাক্ষী দাবি করেন, তিনি একটি ব্যক্তিগত ইয়টে (বিলাসবহুল নৌযান) অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শিশুদের শরীর টুকরো টুকরো করে তার গোশত খেতে দেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে, শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ একটি অপরাধমূলক ও ক্ষতিকর আচরণ, যা শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। এ ধরনের অপরাধের শিকার শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা, ভয়, বিষণ্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইন্টারনেট, পর্নোগ্রাফি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন শিকারিদের কারণে শিশুরা নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই অভিভাবকদের সতর্কতা, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অস্বস্তি, ভয় বা নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানায়, তবে সেটিকে গুরুত্বের সাথে শোনা উচিত। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, মানবসভ্যতার ইতিহাসে নৈতিকতা, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক শৃঙ্খলা সবসময়ই একটি জাতির টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যখনই কোনো সমাজ তার নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করেছে, তখনই সে সমাজ ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে হজরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ঘটনা এমনই এক ভয়াবহ উদাহরণ, যা কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে মানবজাতিকে সতর্ক করার জন্য। বর্তমান বিশ্বে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে সমকামিতা, লিঙ্গ বিভ্রান্তি, উন্মুক্ত যৌনাচার এবং শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে ধীরে ধীরে “স্বাভাবিক” বা “অধিকার” হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতা মুসলিম সমাজসহ গোটা বিশ্বের নৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হজরত লূত (আ:) ছিলেন আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী। তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন যারা নৈতিক বিপর্যয়ে নিমজ্জিত ছিল। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত, প্রকাশ্যে অশ্লীলতা করত এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করত। শুধু তাই নয়, তারা ভ্রমণকারীদের ওপর অত্যাচার করত এবং সমাজে প্রকাশ্যে পাপাচার চালিয়ে যেত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাদের সম্পর্কে বলেন যে, তারা এমন অশ্লীলতার সূচনা করেছিল যা তাদের পূর্বে পৃথিবীর আর কোনো জাতি করেনি। লূত আ. তাদেরকে বারবার সতর্ক করেছিলেন, আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করেছিলেন এবং স্বাভাবিক ও বৈধ পারিবারিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে উল্টো তাকে উপহাস করেছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলার শাস্তি নেমে আসে। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের জনপদ উল্টে দেওয়া হয় এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক শাস্তির বিবরণ নয়; বরং মানবজাতির জন্য একটি স্থায়ী সতর্কবার্তা যে, যখন কোনো সমাজ সীমাহীন অশ্লীলতা ও নৈতিক বিদ্রোহে লিপ্ত হয়, তখন তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।

আজকের লেখাটিতে লূত (আ:)-এর প্রসঙ্গের অবতারণা করার কারণ হলো, জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল অধিকৃত ডেড সির উপকূলে আগামী ১ থেকে ৪ জুন সমকামীদের সবচেয়ে বড়ো বৈশ্বিক ফেস্টিভাল আয়োজন করতে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এ ফেস্টিভালের স্থান সোডোম এবং গোমোরাহ হলো ঠিক সে স্থান-যেখানে হজরত লূত আ. দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু সেখানকার মানুষ তাকে অমান্য করে সমকামিতায় লিপ্ত হয়েছিল আর সে স্থানটি আল্লাহ তাআলা আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। অসংখ্য মানুষকে স্থায়ীভাবে পাথর বানিয়ে দিয়েছিলেন। ইসরাইল একদম পরিকল্পিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার জন্য কাজ করে আসছে। ইসরাইল মূলত আল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে তারা লূত আ. এর স্থানটিকেই এই নোংরামির জন্য বেছে নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ডেড সি অঞ্চলকে অনেক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গবেষক লূত আ.-এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার সাথে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে সেখানে সমকামিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক উৎসব বা প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজনকে ধর্মবিশ্বাসী সকল মানুষই গভীর উদ্বেগের দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার একটি প্রতীকী অবস্থানও বহন করে। সমকামিতার পাশাপাশি, সমাজে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনায়ও ইসরাইলের আধিপত্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্লেষক টাকার কার্লসন তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিশ্বের বড়ো বড়ো সব পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থারাই নিয়ন্ত্রণ করছে।

শুধু ইসরাইল নয়, গত কয়েক দশকে পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশে সমকামী সম্পর্ক ও সমলিঙ্গের বিয়ে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং বৈষম্যবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক দেশে এলজিবিডিকিউ আন্দোলন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা, বিনোদনমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাবের মাধ্যমে এসব ধারণা দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মুসলিম সমাজের একাংশের আশঙ্কা হলো, এসব পরিবর্তনের কারণে পরিবারব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে, বিবাহ ও সন্তান প্রতিপালনের প্রচলিত ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশ্বশান্তি ও প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে কেবল ইসলাম। শুধু তাই নয়, ইসলাম পরিবারব্যবস্থাকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বৈধ বিবাহ, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, লজ্জাশীলতা এবং নৈতিক চরিত্রকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কারণ একটি সুস্থ পরিবার থেকেই সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি নৈতিক চ্যালেঞ্জও দ্রুত বাড়ছে। অশ্লীলতা, পর্নোগ্রাফি, মাদক, যৌন বিশৃঙ্খলা এবং পরিবার ভাঙনের মতো সমস্যা সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মুসলিম সমাজের জন্য তাই প্রয়োজন কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মকে আত্মসংযম ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেওয়া। সর্বশেষ রামিসার ঘটনা আমাদের কয়েকটি কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে,

  • শিশু সুরক্ষাকে এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না
  • পরিবার ও সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি আছে
  • যৌন সহিংসতা ও শিশু নির্যাতন নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা কাজ করে
  • আইনগত বিচার দ্রুত ও দৃশ্যমান না হলে মানুষের আস্থা কমে যায়

পরিশেষে বলতে চাই, একটি সভ্য সমাজের পরিচয় শুধু উন্নয়ন বা প্রযুক্তিতে নয়, বরং দুর্বল ও অসহায় মানুষদের, বিশেষ করে শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন:

  • পরিবারে শিশুদের সাথে খোলামেলা সম্পর্ক গড়ে তোলা
  • শিশুদের নিরাপদ ও অনিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া
  • তাদের অভিযোগ বা অস্বস্তিকে গুরুত্বের সাথে শোনা
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো
  • অপরাধীদের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচারের আওতায় আনা
  • অনলাইন ও বাস্তব জীবনে শিশু সুরক্ষা জোরদার করা

একই সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ মানুষ এখনো মানবিক, দায়িত্বশীল এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। সমাজে অন্ধকার আছে, কিন্তু সে অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষও আছে। এ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই সমাজকে টিকিয়ে রাখে। আজকের বিশ্বে নৈতিকতা, পরিবার ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ এবং নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার তাওফিক দান করুন, আমাদের পরিবার ও সন্তানদের সকল ধরনের নৈতিক বিপর্যয় ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।