প্রাসঙ্গিক ভাবনা

আমার সাংবাদিক জীবনের কিছু স্মৃতি

পাকিস্তান অবজার্ভারের সাব এডিটর হিসেবে আমাকে নিয়োগ প্রদান করা হলেও এক বছরের মাথায় আমাকে নতুন দৈনিক পূর্ব দেশে বদলি করা হয়। এর আগে মাহবুবুল হকের সম্পাদনায় এটি ফেনী থেকে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হতো এবং তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

শেয়ার

দ্বিতীয় কিস্তি

পাকিস্তান অবজার্ভারের সাব এডিটর হিসেবে আমাকে নিয়োগ প্রদান করা হলেও এক বছরের মাথায় আমাকে নতুন দৈনিক পূর্ব দেশে বদলি করা হয়। এর আগে মাহবুবুল হকের সম্পাদনায় এটি ফেনী থেকে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হতো এবং তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। মাহবুবুল হক স্বয়ং আবদুল গনি হাজারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুল হাই, ঢাকা ল’ রিপোর্টের সম্পাদক ওবায়দুল হক চৌধুরী এই পত্রিকায় কলাম লিখতেন। গনি হাজারীর কলমী নাম ছিল কাল পেঁচা এবং কলামের নাম ছিল কাল পেঁচার ডায়রী। ওবায়দুল হক ছিলেন অবজার্ভারের ডেপুটি এডিটর, ওবায়দুল হক চৌধুরী ছিলেন হামিদুল হক চৌধুরীর আপন ছোট ভাই।

হামিদুল হক চৌধুরী অবাজর্ভার গ্রুপের পত্রিকাসমূহের মালিক হবার পাশাপাশি আল হেলাল প্রেস এন্ড পাবলিকেশন লিমিটেডের মালিক চেয়ারম্যানও ছিলেন। এর অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে তার স্ত্রীর নবাবজাদী জাহানারা বেগম, তার পুত্র ব্যারিস্টার খালেদ হামিদুল হক চৌধুরী, সিলেটের মাহমুদ আলী চৌধুরী, করাচীর ডেইলি ডন সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। এর মধ্যে শেষোক্ত দু’জন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। দৈনিক পূর্বদেশে আমাদের এগারোজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করা হয়েছিল। নিয়োগপত্রে বেতন স্কেল ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কে কিছু ছিল না। শুধু বলা হয়েছিল মাসে ২৫০.০০ টাকা সম্মানী পরিশোধ শর্তে শিক্ষানবিশ সহসম্পাদক হিসেবে নিয়োগপত্র দেয়া হলো। তিন মাস পর স্ব স্ব পারফরমেন্সের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ এগারো জনের মধ্যে প্রবীণ-নবীন যারা ছিলেন তারা হচ্ছেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, সালেহ উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান, নূরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মোহাম্মদ ওয়াীলউল্লাহ, এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন মানিক, এএনএম গোলাম মোস্তফা, এরশাদ মজুমদার এবং আমি স্বয়ং।

দ্বিতীয় ব্যাচে যোগ দেন সর্বজনাব বজলুর রহমান (মতিয়া চৌধুরীর স্বামী), ফয়েজ আহমদ, কামাল লোহানী, আতিকুর রহমান, হোসেন তওফিক চৌধুরী, চৌধুরী মঈন উদ্দিন প্রমুখ। আতিক বিবিসি সংবাদদাতাও ছিলেন। আগেই বলেছি তিনমাস আমরা শিক্ষানবিস হিসেবে ভাতা পেয়েছি মাসিক ২৫০.০০ টাকা। মাস শেষে হিসাব বিভাগ থেকে এই ভাতা প্রত্যেকের ডেস্কে পৌঁছিয়ে দেয়া হতো। চতুর্থ মাসের জন্য সবাই অপেক্ষমান ছিলেন। দেখা গেল, কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই সবার বেতন নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমি পেলাম ৬৪৩.০০ টাকা, গাফফার চৌধুরী ৮০০.০০ টাকা যা ছিল সর্বোচ্চ। এভাবে যার যার পাওনা সবাই পেলেন; কারুর মধ্যে কোনো অসন্তুষ্টি দেখা গেল না। বলতে ভুলে গেছি যে, আনুষ্ঠআনিক নিয়োগপত্রের সাথে হামিদুল হক চৌধুরী আমাদের হাতে সাংবাদিকতার নীতিমালা সংক্রান্ত তিন পৃষ্ঠার একটি কাগজও ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন যে, এই দুটি জিনিস হচ্ছে তোমাদের জন্য সাংবাদিকতার লাইসেন্স। তার কথা ছিল একজন লেখক ও সাংবাদিকের সফলতার তিনটি শর্ত আছে। শর্তগুলো হচ্ছে : এক. লেখাপড়া, দুই. লেখাপড়া এবং তিন. লেখাপড়া।

লেখাপড়া না করেই করে কেউ সাংবাদিক, কলামিস্ট হতে পারেন না। এজন্য তিনি তার বাসা ও অবজার্ভার ভবনে গড়ে তুলেছিলেন অত্যন্ত সমৃদ্ধ লাইব্রেরী বা পাঠাগার। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর হামিদুল হক চৌধুরীর এই উভয় লাইব্রেরীকে ভিত্তি করে বিবিসি একটি ফিচার প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। সাংবাদিক হিসেবে আমি সারাজীবন তার এই নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করেছি। তিনি বলতেন, পাকিস্তানের দু’অংশে অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকা আছে, যেমন পূর্ব পাকিস্তানের খ্যাতনননামা দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদ, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী, প্রেস ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান, মর্নিং নিউজ, পয়গাম, দৈনিক সংবাদ, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বানী, পিপলস ভিউ এবং দৈনিক উত্তেহাদ। দৈনিক ইত্তেফাক ছিল মাওলানা ভাসানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা, সংবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জনাব নূরুল আমিন, জহুর হোসেন চৌধুরী ছিনে এর সম্পাদক, আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মাওলানা আকরম খাঁ, বাংলার বাণী আওয়ামী লীগের দলীয় পত্রিকা ছিল। চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকা ছিল আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক খালেদের, ইংরেজি দৈনিক পিপলস ভিউ’র সম্পাদক ছিলেন হামিদুল হক চৌধুরী পরিবারের এক সদস্য জনাব ববি ইসলাম। দৈনিক ইত্তেহাদ ছিল পাকিস্তানের অন্যতম প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বেঙ্গল মুসলিম লীগের সেক্রেটারি জনাব আবুল হাসেমের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক। খ্যাতনামা আওয়ামী লীগ নেতা ‘বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পুস্তকের লেখক ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের পিতা আবুল মনসুর আহমদ। ষাটের দশকের শেষ দিকে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনাব আবদুল খালেক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। হামিদুল হক চৌধুরীর কথা ছিল, পূর্ব ও পশ্চিম পাকস্তিানে এতগুলো পত্রিকা থাকতে রেডিও-টেলিভিশন কর্তৃক নিউজ প্রচার সত্ত্বেও মানুষ কেন তার মালিকানাধীন পত্রিকা পড়বে? তার যৌক্তিকতা সাংবাদিকরাই তুলে ধরবেন। তখন একটি পত্রিকার দাম ছিল চার আনা বা পঁচিশ পয়সা, তিনি জোর দিয়ে বলতেন, চার আনা দামের একটি পত্রিকা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ কপি বেশি বিক্রি হয় তাহলে এই অতিরিক্ত Sale proceeds থেকে মালিকের মুনাফা এবং সাংবাদিকদের বেতন ভাতা ও Outfit Allowance আসবে।

নবীন সাংবাদিক হিসেবে শিক্ষা প্রশিক্ষণে অবজার্ভার ভবনের সহযোগিতা ভুলার মতো নয়। নিয়োগ পাওয়ার সাত মাসের মাথায় আমাকে তারা চারমাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ফিলিপাইনের রাজধানীতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিুটে (আইপিআই) প্রেরেণ করেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় এর সদর দফতর অবস্থিত। ম্যাট্রো ম্যানিলায় এর একটি কেন্দ্র ছিল। ম্যানিলা পোস্ট পত্রিকায় আমার অবস্থা অনেকটা ইন্টারর্নশীপের মতো ছিল। সপ্তাহে ৬টি ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং ইংরেজি দৈনিক ম্যানিলা পোস্টে হাতেকলমে সাংবাদিকতা শেখা। ম্যানিলাতেই ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সাথে আমার পরিচয় হয়। তিনি রিসোর্স পার্সন হিসেবে আমাদের ক্লাস নিতেন। এ নজরুল ইসলামকেই অবজার্ভার পত্রিকা সহকারী সম্পাদক করে নিয়ে এসেছিল। তখনকার দিনে প্রসিদ্ধ বেশ কয়েকজন লেখক কলামিস্ট ছিলেন। এর মধ্যে ইত্তেফাক সম্পদাক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, মুসাফির ছদ্মনামে, ১৯৬৫ সালে কায়রোতে পিআইএ বিমান ক্রাশে নিহত আহমেদুর রহমান মিঠেকড়া ভিমরুল নামে এবং অবজার্ভার সম্পাদক আবদুস সালাম স্বনামে As I see it কলাম, আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বুয়েট এর পূর্বনাম) অধ্যাপক মুনির Between the line শিরোনামে একটি নিয়মিত সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।

আমরা যে যেখানে দায়িত্ব পালন করেছি সে সেখানে পাকিস্তানের উভয় প্রদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক কলামিস্টদের অনুকরণ করে লেখার মানোন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি এবং চতুর্থ স্টেট হিসেবে খবরের কাগজের সম্পাদকীয় নিবন্ধের মান সমন্বিত রাখার চেষ্টা করেছি। পাত্রিকা পাঠকদের বিভিন্ন চাহিদা আছে। কেউ খেলাধুলা, কেউ রাজনীতি, কেউ সাহিত্য সংস্কৃতি, কেউ শিশু ও মহিলা অঙ্গন আবার কেউ আন্তর্জাতিক বিষয়ে আগ্রহী। অনেকে আবার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ইসলামী দুনিয়া সম্পর্কেও জানতে চান। একটি দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকাকে এর সবগুলো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। অবজার্ভারে ইয়ং অবজার্ভার নামে শিুদের একটি ফিচার পেজ ছিল। এডিট করতেন তাহমিনা সাঈদ। তিনি তৎকালীন ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস আবদুল্লাহর মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ, মর্নিং নিউজ পত্রিকার রিপোর্টার। তাহমিনা পারে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছিলেন। এখানে মহিলা পাতা এডিটিং করতেন সিতারা মূসা, এবিএম মূসার স্ত্রী, অবজার্ভার সম্পাদক জনাব আবদুস সালামের মেয়ে। তখনকার দিনে নারী সাংবাদিক ছিলেন না বললেই চলে। ১৯৬৯ সালে নার্গিস রফিকা বানু নামে মহিলাকে আমার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় জুনিয়র সাব এডিটর (অর্থনীতি) হিসেবে। নার্গিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছিলেন, নার্গিস কমরুদ্দিন নামে একজন নামকরা চিকিৎসকের কন্যা ছিলেন। ১৯৭০ সালের জানুয়ারি মাসে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের একটি পাঁচতলা বাড়ির ছাদে উঠে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে নিচে লাফিয়ে পাড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এ চিকিৎসক। নার্গিসের বেপরোয়া চলাফেরাকেই অনেকে দায়ী করেছিলেন। নার্গিস তার ডিপার্টমেন্ট অর্থনীতির একজন লেখচারার আনিছুর রহমানকে পছন্দ করতেন এবং তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারীক্ষাসমূহের উত্তরপত্র তিনটি ভাষার যেকোনো একটিতে লিখার অপশন ছিল। ভাষাগুলো ছিল ইংরেজি, বাংলা এবং উর্দু। আমি দৈনিক পূর্বদেশের পাশাপাশি লক্ষ্মীবাজারের কায়েদে আজম কলেজেও Business organisation & Managment এবং পাকিস্তান ইকনমিকস পড়াতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সামিনারও ছিলাম। উর্দু ভাষায় আমার বুৎপত্তি ছিল। আনিছুর রহমান উর্দু জানতেন না। নার্গিস আমার সহযোগিতা কামনা করেন এবং আনিছের অনার্স ও মাস্টার্স প্রিলিমিনারী পরীক্ষার উত্তরপত্র (উর্দু) দেখে দিয়েছিলাম। অবশ্য নার্গিসের বাবা আত্মহত্যার পর আনিছুর রহমান নার্গিসকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। নার্গিসের ছোট ভাই এজন্য আনিছকে গুলি করেছিল এবং গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বিয়ের পাঠটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। আমি তখনো বিয়েশাদী করিনি। এ অবস্থায় আমার সম্পাাদক মাহবুবুল হক সম্ভবত নার্গিসের সাথে কথা বলে তাকে বিয়ে করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। একজন আত্মহত্যাকারী হতাভাগ্য পিতার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব আমার অভিভাবক বিশেষ করে আব্বা-আম্মা ও আত্মীয়-স্বজনদের নিকট দিতে আমি অস্বীকার করি।

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন শেখ মুজিব সরকার অবজার্ভার গ্রুপের পত্রিকাগুলোসহ হামিদুল হক চৌধুরীর সব সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেন। পূর্বদেশ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অবজার্ভার সম্পাদক আবদুস সালামও চাকরি হারান। দৈনিক পাকিস্তান দৈনিক বাংলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯৭২ সালের জানুযারি মাসের ২০ তারিখে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ১০ দিন পর দৈনিক বাংলা পত্রিকা ‘এদের ধরিয়ে দিন’ ব্যানার হেডিং দিয়ে আমি এবং চৌধুরী মুঈনউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি রিপোর্ট করে। হেডিংয়ের বাম পাশে ছিল মুঈন ভাইয়ের ছবি, পূর্বদেশের তুখোড় রিপোর্টার। তার পরিচয় দেয়া হয় আল বদর বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ। আমার ছবি না পাওয়ায় স্পেসটি খালি রাখা হয়। আমার পরিচয় দেয়া হয় জামায়াতে ইসরামীর পলিট ব্যুরোর সদস্য (?)। তখন দেশে আইনশৃঙ্খলা ছিল না। মুক্তিবাহিনী, মুজিব বাহিনী সারা দেশে জামায়াত সমর্থক ও রাজাকার তকমা দিয়ে কয়েক লাখ লোককে হত্যা করে। আমার অফিসে যাওয়া বন্ধ। নতুন সম্পাদক এহতেশাম হায়দার চৌধুরী একদিন আমারই এক কাজিন (তার পরিচিত) মারফত তার পুরানা পল্টনের বাসায় আমাকে দাওয়াত দেন। ঐ বাসায় আগে থেকেই নার্গিসসহ আমার পুরানা সহকর্মীদের অনেকেই অবস্থান করছিলেন। বাসায় ঢুকেই আমি তাদের মুখোমুখি হই। তারা আমার ওপর অনেকটা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা আমাকে দালাল আখ্যায়িত করে তাৎক্ষণিক হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় নার্গিস এসে আমাদের মাঝখানে দাঁড়ায় এবং সহকর্মী হিসেবে আমাকে নিরপরাধ ঘোষণা করে। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করে। (চলবে)