প্রাসঙ্গিক ভাবনা

আমাদের ভাষা দিবস : একটি কড়চা

চান্দ্র ও সূর্য মাসের হেরফেরের কারণে এ বছর পবিত্র রমযান মাসের মধ্যে আমাদের ভাষাদিবসটি ঢুকে গেছে। জোতির্বিদদের মতে, প্রায় ৩২/৩৩ বছর পর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। রমযান মাস মুসলমানদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে পবিত্র মাস,

শেয়ার

চান্দ্র ও সূর্য মাসের হেরফেরের কারণে এ বছর পবিত্র রমযান মাসের মধ্যে আমাদের ভাষাদিবসটি ঢুকে গেছে। জোতির্বিদদের মতে, প্রায় ৩২/৩৩ বছর পর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। রমযান মাস মুসলমানদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে পবিত্র মাস, ত্যাগ ও সংযমের মাস হিসেবে মাসটির গুরুত্ব অপরিসীম, আবার বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি খ্যাত আট ফাল্গুনের ভাষা দিবসটির গুরুত্বও অপরিসীম। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে গত শনিবার সারাদেশে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ দিবসের সূচনায় রাষ্টপতি জনাব শাহাবুদ্দিন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি ও তিনবাহিনীর প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান যথাক্রমে কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এ প্রথমবারের মতো শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করা হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এ গানের সুরে প্রভাত ফেরিতে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষ।

ভাষা হচ্ছে মানুষের মনোভাব বা অনুভূতি প্রকামের ধ্বনিনির্ভর মাধ্যম। এটি আল্লাহর দান। মায়ের মুখের বুলিই আমাদের মাতৃভাষা, এলাকার অঞ্চল ভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে। এক এলাকার বুলি অন্য এলাকার গালি হিসেবেও গণ্য হয়। আমরা বাংলা ভাষাকে আমাদের মাতৃভাষা বললেও আঞ্চলিক ভাষাই আমাদের মাতৃভাষা। ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ তার আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সিলেট, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বাসিন্দাদের আঞ্চলিক ভাষা বা মাতৃভাষার প্রতি টান অত্যন্ত বেশি। তারা যখন নিজেরা নিজেরা কথা বলেন, তখন অন্য এলাকার লোকেরা সহজে তা বুঝতে পারেন না। তথাপিও এ আঞ্চলিকতা কিন্তু আমাদের বাংলা ভাষার সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কারুর কারুর দৃষ্টিতে শুদ্ধ বাংলা বা প্রমিত বাংলা তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলা অত্যন্ত গতিশীল একটি ভাষা। এ ভাষা সর্বদা নতুনকে গ্রহণ করে এগিয়ে এসেছে এবং আধ্যাত্মিকতা বা আদর্শই হচ্ছে সর্বদা এর গতির চালিকা শক্তি। বাংলা ভাষা হর প্রসাদ শাস্ত্রির আবিষ্কৃত চর্যাপদের (যেমন কা আ তরুবর পঞ্চবি ঢাল, চিত্র চৈতে পাইঠা কাল) অবোধ্য ভাষার মধ্যেই সীমিত থাকেনি বরং আরবি, ফারসী, ইংরেজি, উর্দু প্রাকৃত-সংস্কৃত শব্দে সমৃদ্ধ হয়ে আধুনিক বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই কথাগুলো বললাম এজন্যে যে, একজন নতুন মন্ত্রী, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন যে, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয় এবং বাংলা ভাষাকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ প্রভৃতি শব্দ রাখা যাবে না। তিনি বলেছেন, এ শব্দগুলো শুনলে তার ব্লিডিং হয়। ক্ষমতাসীন দলের আরেক নেতা বলেছেন যে, ইনসাফ, আযাদী, মজলুম, জালেম প্রভৃতি শব্দের আগ্রাসনে বাংলা ভাষা আজ তার সত্ত্বা হারিয়ে ফেলছে। তাকে রক্ষা করতে হলে শব্দের এ দুষণ বন্ধ করতে হবে।

জনাব টুকু পাকিস্তানের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বড় ছেলে। তার আরেক দুলাভাই ডা. আবদুল মতিন এরশাদের আমলে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, জনাব টুকু স্বয়ং ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির এমপি এবং ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও ইতিপূর্বে কাজ করেছিলেন। অর্থাৎ তার ওজন একেবারে হালকা নয়, বেশ ভারী। তিনি যখন কথা বলেন, তখন অবশ্যই দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন। তার এ কথার জবাব আমি পরে দিচ্ছি। এখন মূল প্রসঙ্গে আসি।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইসলাম একটি বিশ্বজনিন ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থা এবং দেশ-কাল-পাত্র ভেতে তার সংস্কৃতির যে পরিবর্তন ঘটে, ভাষা দিবসটি তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মুসলমানরা রক্ত ঝরাতে পারে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলা ভাষী জনগোষ্ঠীর বাস শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের আরো কয়েকটি প্রদেশেও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সবাই বাংলাভাষী। এছাড়া আসাম, বিহার ও উড়িষাতেও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। বর্তমানে এ উপমহাদেশে বাংলা ভাষীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। তন্মধ্যে বাংলাদেশেই আঠারো কোটির মতো। সে তুলনায় সংখ্যার দিক দিয়ে এরা মাইনরিটি। কিন্তু এর পরও এদের চেষ্টায় বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর এ রাষ্ট্রের ভাষা বাংলা এদের জন্য বাংলা ভাষা জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করেছে। দরিদ্র হলেও এসব কারণে বাংলাদেশী জনগণ বিশ্বের কাছে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে গর্বানুভব করতে পারে।

এ প্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই যে, একদা বাংলা ভাষা এ বঙ্গভূমিতে অত্যন্ত অবহেলিত ছিল। মুসলিম শাসনের পূর্বে তদানিন্তন শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার প্রতি প্রসন্ন ছিল না। বাংলা ভাষা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল মুসলিম শাসন আমলেই। এমনকি দিল্লীর মুসলমান সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করে বাঙালিদের গৌরবান্বিত করে গেছেন।

ইংরেজ আমলে মুসলমানদের বাংলা ভাষাকে হাইজ্যাক করে এমন এক বাংলার জন্ম দেয়া হয় যা ছিল বাঙালি মুসলমানদের মাতৃভাষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মূলত দ্বিজাতি তত্ত্বের বীজ এখানেই রোপণ করা হয়েছিল। ১৭০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কর্তক কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করে বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতি নির্ভর একটি ভাষায় পরিণত করা হয়। মুসলমানদের শিক্ষা সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে বাইরে রাখাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে হিন্দুরা সহজে তা মেনে নিলেও মুসলমানরা তা মেনে নিতে পারেনি।

অবশ্য পরবর্তী সময়ে সাধারণ হিন্দুরাও এ ভাষাটিকে পরিত্যাগ করেছে; কেননা বাহ্মণ পন্ডিতেরা সংস্কৃত জানলেও সাধারণ হিন্দুদের কাছে তা ছিল দুর্বোধ্য। কাল পরিক্রমায় একশ্রেণির মুসলমান লেখক আরবী-ফারসী মিশ্রিত বাংলা চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাও গ্রহণ করেনি। আসলে মানুষই ভাষা সৃষ্টি করে, ভাষা মানুষ সৃষ্টি করে না। তাই ভাষায় কৃত্রিমতা আমদানির প্রয়াস যেমন হিন্দুরা সহ্য করতে পারেনি, তেমনি মুসলমানরাও পারেনি।

আলোচনার শুরুতে আমি ভাষা দিবসের সাথে এ বছর পবিত্র রমযানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেছিলাম। পবিত্র কুরআনে প্রত্যেকের মাতৃভাষাকে স্বীকার করা হয়েছে, যদিও কুরআনের ভাষা আরবি। এ উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলে ফার্সি ছিল রাষ্ট্রভাষা। যতটুকু জানা যায়, উপমহাদেশে কোনো মুসলমান শাসকের মাতৃভাষা ফার্সি ছিল না। কিন্তু দরবারী ভাষা হিসেবে তখন সকল মুসলিম দেশে ফার্সি চালু হয়ে গিয়েছিল। এ দেশে যিনি সর্বপ্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার নাম শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ ঘোরি, তিনি ছিলেন আফগান, তার পূর্ব পুরুষরা তুর্কি, তার আত্মীয়স্বজন তিনি তুর্কী ভাষায় লিখে গিয়েছেন। উর্দুর উৎপত্তি হয়েছিল মুসলিম শাসকদের সেনা ছাউনি থেকে। হিন্দি ভাষার উৎপত্তিও অনেকটা সে রকম। উপমহাদেশের বহুভাষী জনগণের একটি বোধগম্য সাধারণ ভাষার প্রয়োজনেই এগুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। মুসলমান শাসকরা শাসন কার্যের সুবিধার জন্য আঞ্চলিক ভাষাসমূহের উপরও গুরুত্ব আরোপ করতেন।

ইংরেজরা এ দেশ দখল করে রাষ্ট্রভাষা ফার্সিকে এ অজুহাতে বিলুপ্ত করেছিল যে, এ ভাষা এদেশের কারুর মাতৃভাষা নয়। কিন্তু পরিবর্তে তারা তাদের মাতৃভাষা ইংরেজিকে এদেশের রাজভাষা হিসেবে চালু করেছিলেন, এতে শুধু মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হননি, হিন্দুরাও হয়েছেন। কারণ সরকারের অমার্ত্য হিসেবে তারা ফার্সি চর্চা করতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ফার্সি ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। তার পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরও ফার্সি চর্চা করতেন। উত্তরাধিকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথও ফার্সি শিখেছিলেন এবং তার কবিতায় ফার্সি কবি হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের কবিতার স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ছন্দের জাদুকর বলে খ্যাতিমান কবি সত্যেন্দ্রনাথদত্ত বহু ফার্সি কবিতার অনুবাদ করেছিলেন। বলা নিষ্প্রয়োজন যে, বৃটিশ যুগে ফার্সির চর্চা মাদরাসা ছাড়াও স্কুল কলেজেও ছিল। আবার আরবী ফার্সি ভাষার প্রচলন আমাদের আঞ্চলিক তথা মাতৃভাষাগুলোকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল যা ইংরেজির আগ্রাসনে আমরা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি। আমার শৈশবে আমরা বাসন বা বর্তনে খাবার খেয়েছি হিন্দুরা খেয়েছে থাল বা থালায়। আমরা কুরসিতে বসেছি, মেস বা মেজে বই রেখে পড়েছি। এখন বাসন বা বর্তনের নাম হয়েছে প্লেট, কুরসী হয়েছে চেয়ার, তেমনি মেজে টেবিলে পরিণত হয়েছে। আমরা গোসল করেছি হিন্দুরা স্নান করেছে। আমরা বদনা ব্যবহার করেছি তারা লোটা ব্যবহার করেছে। মুসলমানরা ঢিলা কুলুফ ব্যবহার করতো, হিন্দুরা করতো না। এখন উভয়েই বাথরুমে টিস্যু ব্যবহার করে। এ রকম হাজারো দৃষ্টান্ত দেয়া যায় যা নিবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি করে পাঠকদের বিরক্তির উদ্রেক করবে। এটা হচ্ছে আসলে ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি।

“রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, নূরুল আমিনের গর্দান চাই।” এ শ্লোগানটি ছিল বায়ান্ন সালের। তৎকতালীন মুসলিম লীগ নেতা নূরুল আমিন তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মিছিলে গুলি ছোড়ার নির্দেশ তিনি দেননি, তার সরকারের একজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছিলেন। এজন্য আমরা তার গর্দান চেয়েছি। গর্দান শব্দটি কি প্রমিত বাংলা ছিল? না। ঐ সময়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের গভর্নর জেনারেল ও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন যথাক্রমে খাজা নাজিমুদ্দিন ও ফজলুর রহমান। এদের তিনজনই এ ভূখণ্ডেরই মানুষ ছিলেন। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের রাষ্ট্রভাষা কি হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুধু পাকিস্তানে হয়নি, ভারতেও হয়েছে। সমগ্র ভারত বর্ষের কোন অঞ্চল, প্রদেশ বা রাজ্যেরই ভাষা হিন্দি ছিল না। তারা হিন্দিকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান (বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমানের পিতা) আরবী হরফে বাংলা লিখা প্রচলনের সুপারিশ করেছিলেন, যেমনি তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক তুর্কি হরফে কুরআন লেখার প্রবর্তন করেছিলেন। পাকিস্তানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। হিন্দুস্তানে যেমন হিন্দি কোনও অঞ্চলের ভাষা নয় তেমনি উর্দুও পাকিস্তানের কোনও প্রদেশের ভাষা ছিল না। সেখানে সিন্দুতে সিন্ধি, পাঞ্জাবে পাঞ্জাবী, বেলুচিস্তানে বেলুচি এবং সীমান্ত প্রদেশে পুসতু। এ বিতর্ক শেষ হয়েছে কিন্তু বিদ্বেষ এখনো শেষ হয়েছে বলে মনে হয় না। আবার দেখা যায় যে, কিছু লফ্জ বা শব্দের ন্যায় পাকিস্তান নামক দেশটিও আমাদের অনেকের চক্ষুশূল। তারা ইনকিলাব জিন্দাবাদ আজাদী ইনসাফ মজলুম প্রভৃতি শব্দকে ভাষার উৎকর্ষের পথে প্রতিবন্ধক বলে মনে করেন। এ শব্দগুলো শুনলে তাদের ব্লিডিং হয়। এ ব্লিডিং শব্দটি নিয়ে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে আমার একটি স্মৃতি আছে। ষাটের দশকে প্রথম দিকে ঢাকার একটি কলেজের ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত সিরাতুন্নবী মাহফিলে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। আমার তাতে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। দুনিয়ার আঠারটি ভাষায় পারদর্শী ড. শহীদুল্লাহ ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। মুসলমান ছেলেদের মসজিদের নামাজ পড়া এবং হিন্দুদের মন্দিরে উপাসনালয় তিনি উদ্বুদ্ধ করতেন। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের নামাজে অবজ্ঞাকে তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখতেন। এ মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আফসোস করে বললেন যে, ছাত্রদের একটি প্রবণতা তাকে ব্যথিত করে। সেটা হচ্ছে নামাজ না পড়া। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে মেয়েদের জন্য নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছেন। এ দিনগুলোতে নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে না। সময়টি হচ্ছে হায়েজ নেফাজের। এ সময় তাদের ব্লিডিং হয়। যে সকল ছেলে নামাজ পড়ে না, তাদেরও কি ব্লিডিং হয়? এটি ছিল তার প্রশ্ন। আমার প্রশ্ন, কিছু আরবী, ফার্সি বা মুসলমানী শব্দের ব্যবহারে যাদের ব্লিডিং হয় তাদেরকে আসলে কি বলা যায়, পাঠকদের পরামর্শ চাই।