গাজায় নির্বিচারে প্রাণহানির অভিযোগে আফ্রিকার দেশগুলোর বিশ্বকাপ বর্জন করা উচিত --জিম্বাবুয়ে

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বয়কট করার জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাফি ম্হাকা।

শেয়ার
আফ্রিকার দেশগুলোর ২০২৬ বিশ্বকাপ বর্জনের দাবি উঠছে।            ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশগুলোর ২০২৬ বিশ্বকাপ বর্জনের দাবি উঠছে। ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরা : যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বয়কট করার জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাফি ম্হাকা। ১৯৭৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যেভাবে আফ্রিকান দেশগুলো অলিম্পিক বর্জন করেছিল, গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে মার্কিন সমর্থনের প্রতিবাদে বর্তমানে ঠিক একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, যেখানে গাজায় নির্বিচারে প্রাণহানি ঘটছে, সেখানে ফুটবলের মতো উৎসব চলতে পারে না। এই প্রতিবাদের পটভূমি তৈরি হয়েছে সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ২৫ জন সদস্যের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আয়োজক দেশ হিসেবে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের রাজনীতিকরাও এই আসরে অংশগ্রহণকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং সিভিল লিবার্টিজের ওপর আঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গাজা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২,০৩২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,৬৬১ জন। গাজার অবকাঠামোর সিংহভাগই এখন ধ্বংসস্তূপ। এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে ওয়াশিংটনের বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক সুরক্ষা সরাসরি ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।

আফ্রিকার রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে এই সংকটের গভীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৭৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশি গুলিতে ১৫ বছর বয়সী হেস্টিংস এনডলোভুর মৃত্যু এবং কয়েকশ শিক্ষার্থীর রক্তপাতের পরও যখন নিউজিল্যান্ডের রাগবি দল বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে, তখন আফ্রিকার ২২টি দেশ মন্ট্রিল অলিম্পিক বর্জন করেছিল।

সেই ত্যাগের ফলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজনীন জনমত গঠন ত্বরান্বিত হয়েছিল। বর্তমান সময়ে গাজায় সিদ্রা হাসৌনার মতো হাজারো শিশুর মৃত্যু সেই পুরনো ক্ষতের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষক ম্হাকার মতে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'শান্তি পুরস্কার' প্রদান করেন, তখন ফিফার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই অবস্থায় মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর, আইভরি কোস্ট, ঘানা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ফুটবল শক্তিগুলোর সমন্বিত বয়কট বিশ্ববাসীকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। এই বর্জন হয়তো যুদ্ধ তাৎক্ষণিক থামাবে না, তবে এটি প্রমাণ করবে যে ফিলিস্তিনি শিশুদের কবরের ওপর ফুটবল উৎসব আফ্রিকার দেশগুলো মেনে নেবে না।