শ্রমিক ও কৃষিযন্ত্র সংকটে তাড়াশে ধান বি নষ্ট, দিশেহারা কৃষক

শ্রমিক সঙ্কট, কৃষিযন্ত্রের অভাব এবং টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শ্রমিক সঙ্কট, কৃষিযন্ত্রের অভাব এবং টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়া অনেক কৃষক বিনামূল্যেও ধান কেটে নিয়ে যেতে বললেও তাতে সাড়া মিলছে না। ফলে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

গত বুধ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিচু জমির অধিকাংশ ধান পানির নিচে তলিয়ে পচে গেছে। অন্য দিকে উঁচু জমির ধান কাটার জন্যও দেখা দিয়েছে শ্রমিক ও যন্ত্রের তীব্র সঙ্কট।

চলনবিল, ঘরগ্রাম মাগুড়া হামকুড়িয়া, আমবাড়িয়া দক্ষিণ শ্যামপুর দোবিলা নাদো সৈয়দপুর চর হামকুড়িয়া, বিল কুন্দোইল, কামারসন মাকরসন, রুকুন্দীপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আবু সাইদ বলেন, ‘আমার এক একর ২০ শতাংশ জমির ধান এলাকার মানুষকে কেটে নিয়ে যেতে বলেছি; কিন্তু কেউ বিনামূল্যেও নিতে চায় না।’ সাইকোলা গ্রামের কৃষক আবুল হাসিম বলেন, ‘ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শার্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো ধানের ৫৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট এবং ৩৭০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অতিবৃষ্টিতে ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান ও ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা না করলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।