শরিফা চাষ করে সফল কুষ্টিয়ার কৃষক জালাল উদ্দিন

বাণিজ্যিকভাবে শরিফা বা নেওয়া ফল চাষ করে সফল হয়েছে কুষ্টিয়ার কৃষক জালাল উদ্দিন। ইতিমধ্যে নিজের বাগান থেকে তিনি দুই লক্ষাধিক টাকার শরিফা ফল বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে এ ফলের দাম কিছুটা কম হলেও বাইরে এর চাহিদা প্রচুর। জেলার অনেক কৃষক শরিফা চাষে ভাগ্য বদলে নিতে সক্রিয় হয়েছে।

শেয়ার

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : বাণিজ্যিকভাবে শরিফা বা নেওয়া ফল চাষ করে সফল হয়েছে কুষ্টিয়ার কৃষক জালাল উদ্দিন। ইতিমধ্যে নিজের বাগান থেকে তিনি দুই লক্ষাধিক টাকার শরিফা ফল বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে এ ফলের দাম কিছুটা কম হলেও বাইরে এর চাহিদা প্রচুর। জেলার অনেক কৃষক শরিফা চাষে ভাগ্য বদলে নিতে সক্রিয় হয়েছে। স্বল্প পরিশ্রম, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় তারা বাণিজ্যিকভাবে শরিফা চাষ করছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ীর হাররিয়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে শরিফা ফল চাষ করেছে। কুষ্টিয়ার বাজারে সাধারণত শরিফা ফল প্রতি কেজি তিনশত টাকায় বিক্রি হয়। তবে ভালো মানের ফল ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করেন কৃষক জালাল উদ্দিন। শরিফা বাগান করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।

এব্যাপারে কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, আড়াই বছর আগে কৃষি অফিসে একটা ট্রেনিং করতে গিয়ে জানতে পারি শরিফা চাষ লাভজনক। তারপর তারা আমাকে চারা ও সার দেয়। আমি এক বিঘা জমিতে শরিফা চাষ করি। প্রথম বছরেই আমি ৭০ হাজার টাকার মতো শরিফা বিক্রি করি। পরের বছর ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলাম। এ বছর মনে হচ্ছে এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো। ইতিমধ্যে ৬০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। আশা করছি ৩০-৪০ বছর ধরে ফল পাবো।

তিনি বলেন, এই ফল চাষ করে আমি অর্থনৈতিকভাবে যেমন লাভবান হয়েছি, তেমনি এলাকায় বেশ সুনাম পেয়েছি। আমি একা এই বাগান করেছি বিধায় ঢাকায় বিক্রি করতে পারি না। অল্প ফল নিয়ে যাওয়া সমস্যা হয়, যদি আরো বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতো তাহলে বাজারজাতে সুবিধা হতো এবং দাম ভালো পাওয়া যেতো। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি গাছের ডালেই প্রচুর টসটসে শরিফা ফল ঝুলছে কৃষক জালাল উদ্দিনের বাগানে। কুষ্টিয়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহানুর রহমান বলেন, শরিফার চাষাবাদ একদমই সহজ। এর রোগবালাই নেই বললেই চলে। আমরা কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ চাষ শুরু করি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প যখন আমাদের প্রদর্শনী দেয়, তখন এটা সম্প্রসারণ খুবই কষ্টকর ছিল। আমরা শরিফা চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছি। কৃষক জালাল উদ্দিনের দেখাদেখি এখন শরিফা চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছে অন্য কৃষকরাও। পুষ্টিগুণে ভরপুর শরিফার ব্যাপক বাণিজ্যিক চাষাবাদ হলে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবে অন্যদিকে পুষ্টি নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থান: কুষ্টিয়া